Howrah Jelar Bonedi Barir Durga Puja লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Howrah Jelar Bonedi Barir Durga Puja লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Andul Dutta Choudhury Bari History and Durga Puja, Andul, Howrah


আন্দুল  দত্ত  চৌধুরী  বাড়ির  ইতিহাস  ও  দুর্গা  পূজা,  আন্দুল,  হাওড়া

             শ্যামল  কুমার  ঘোষ


ঠিকানা : চৌধুরী  পাড়া  লেন।  ( আন্দুল  ব্যায়াম  সমিতির  কাছে  )

            সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস :  আদিশূরের  সময়ে  পুরুষোত্তম  দত্ত  পাঁচ  ব্রাহ্মণের  সঙ্গে  এদেশে  এসেছিলেন।  পুরুষোত্তম  দত্ত  বাংলার  বালি  গ্রামে  বসতি  স্থাপন  করেন।  তাঁর  উত্তর  পুরুষ  তেকড়ি  দত্ত  পিতার  ধন-সম্পদসহ  বালি  থেকে  বাস  উঠিয়ে  আন্দুলে  এসে  বসবাস  শুরু  করেন।  তিনি  ২৫২  বিঘা  জমির  উপর  প্রাসাদ,  দেবালয়  ইত্যাদি  নির্মাণ  করেন।  পরে  বাংলার  নবাব  কর্তৃক  'চৌধুরী'  উপাধি  লাভ  করেন।  তখন  থেকে  এই  বংশ  আন্দুলের  ''দত্ত  চৌধুরী''  বংশ  বলে  পরিচিতি  লাভ  করে। 

            এই  পরিবারের  রামশরণ  দত্তচৌধুরী ( ১৫৪৮ - ১৬০৬ খ্রী )  প্রথম  এই  বাড়িতে  দুর্গা  পূজা  শুরু  করেন। 

সঙ্গের  ছবিগুলো  ২০১৮  সালের  ষষ্ঠীর  দিন  তোলা।


বাড়ির ঠাকুরদালান 

প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

প্রতিমা - ৩

       কী  ভাবে  যাবেন ?

           আন্দুল  দত্ত  চৌধুরী  বাড়ি  যেতে  হলে  হাওড়া  স্টেশন  থেকে  আন্দুলের  বাসে  উঠে  আন্দুল  বাজারে  নামুন।  সেখান  থেকে   টোটোতে  বা  হেঁটে  আন্দুল  দত্ত  চৌধুরী  বাড়ি।

                      ---------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

N. C. Pal Bari Durga Puja, Rajganj, Sankrail, Howrah


নফর  চন্দ্র  পাল  বাড়ির  দুর্গা  পূজা,  রাজগঞ্জ,  সাঁকরাইল,  হাওড়া

                                        শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস : এন  সি  পাল  ( নফর  চন্দ্র  পাল )  প্রধানত  ইঁটখোলার  ব্যবসা  করতেন।  এই  ব্যবসা  করে  তিনি  প্রচুর  সম্পত্তি  করেন।  আন্দুল  বাজারে  এঁদের  অনেক  দোকান  আছে।  বর্তমানে  এই  বাড়ির  ঠাকুরদালানে  অনেক  বাংলা  গানের  চলচ্চিত্রায়ণ  করা  হয়।  পাঁচ  পুরুষ  ধরে  এই  বাড়িতে  দুর্গা  পূজা  হয়ে  আসছে।     

সঙ্গের  ছবিগুলো  ২০১৮  সালের  ষষ্ঠীর  দিন  তোলা। 

ঠাকুর  দালান  সহ  এন  সি  পালের  বাড়ি 

বাড়ির  একাংশ 

প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

প্রতিমা - ৩

প্রতিমা - ৪
            এই  বাড়িতে  যেতে  হলে  হাওড়া  স্টেশন  থেকে  সাঁকরাইলের  বাসে  উঠে  রাজগঞ্জ  শীতলা  তলায়   নামুন।  সেখান  থেকে   হেঁটে  গঙ্গার  ধারে  পাল  বাড়ি।  আন্দুল  বাজার  থেকে  অটোতে  প্রথমে  বানিপুর  এবং  পরে  আর  একটি  অটোতে  উঠে  রাজগঞ্জ  শীতলা  তলায়   নেমেও  এই  বাড়িতে  যেতে  পারেন। 

                      ---------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


Bhattacharya Bari Durga Puja, Andul, Howrah


ভট্টাচার্য   বাড়ির  দুর্গা  পূজা,  আন্দুল,  হাওড়া


                                        শ্যামল  কুমার  ঘোষ

ঠিকানা : প্রেমিক  ভবন  ( মাঝের  বাড়ি ),  প্রেমিক  সরণি,  দক্ষিণ  পাড়া,  আন্দুল 

সঙ্গের  প্রতিমার  ছবি  ২০১৮  সালের  ষষ্ঠীর  দিন  তোলা।


প্রতিমা - ১ 

প্রতিমা - ২

প্রতিমা - ৩



            আন্দুলের  ভট্টাচার্য  বাড়ি  যেতে  হলে  হাওড়া  স্টেশন  থেকে  আন্দুলের  বাসে  উঠে  আন্দুল  বাজারে  নামুন।  সেখান  থেকে   টোটোতে  বা  হেঁটে  আন্দুল  ভট্টাচার্য  বাড়ি।

                      ---------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৮

Andul Raj Bari History and Durga Puja, Andul, Howrah



আন্দুল  রাজ  বাড়ির  ইতিহাস  ও  দুর্গা  পূজা,  আন্দুল,  হাওড়া

                                        শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস : আঠারো  শতকের  মধ্যভাগে  হুগলি  জেলার  আন্দুল  ছিল  একটি  বর্ধিষ্ণু  গ্রাম।  কর  পদবীর  কায়স্থ  পরিবারের  রামচরণ  বা  রামচাঁদ  করের ( রায় )  ফার্সি  ও  আরবি  ভাষায়  খুবই  দখল  ছিল।  আনুমানিক  ১৭৫০  খ্রিস্টাব্দে  মাসিক  মাত্র  ২০  টাকায়  তিনি  ইস্ট  ইন্ডিয়া  কোম্পানির  হুগলির  দপ্তরে  উকিল  পদে  যোগ  দেন।  তীক্ষ্নবুদ্ধিসম্পন্ন  ও  পরিশ্রমী  রামচরণ  নিজের  কর্মদক্ষতায়  রাজধানী  মুর্শিদাবাদে  কোম্পানির  দেওয়ানের  সহকারী  হিসাবে  মাসিক  ৬০  টাকা  বেতনে  যোগ  দেন।  মুন্সী  নবকৃষ্ণের  ( শোভাবাজারের  মহারাজা  নবকৃষ্ণ  দেব )  মতো  তিনিও  রবার্ট  ক্লাইভ  ও  ওয়ারেন  হেস্টিংসের  বিশ্বাসভাজন  ছিলেন।  তিনি  আন্দুল  অঞ্চলের  জোড়হাট  গ্রামটি  পেয়ে  জমিদারি  শুরু  করেন।  ১৭৫৭ খ্রীঃ  পলাশীর  যুদ্ধের  পর  পরাজিত  ও  পলাতক  সিরাজ-উদ্-দৌলার  প্রাসাদে  রক্ষিত  প্রায়  আট  কোটি  টাকার  মুদ্রা-হীরা-জহরত  লুট  করার  সময়  তিনি,  নবকৃষ্ণ  ও  আরও  অনেকে  উপস্থিত  ছিলেন। ( অনেকে  মনে  করেন  যে  রামচরণ  সিরাজের  প্রাসাদ  থেকে  লুন্ঠিত  টাকা  ও  জহরত  নদী  পথে  আন্দুলে  নিয়ে  এসেছিলেন,  কেননা  তিনি  যখন  মারা  যান  তখন  তাঁর  কাছে  ১৬  লক্ষ  টাকা  আয়ের  জমিদারি  ও  ২০  লক্ষ  টাকার  জহরত  বর্তমান  ছিল। )  ১৭৬৫  খ্রিস্টাব্দে  ইংরেজ  বণিকদের  বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার  দেওয়ানি  লাভের  পর  তিনি  ক্লাইভের  দেওয়ান  পদে  নিযুক্ত  হন।  ফলে  তাঁর  প্রভাব,  প্রতিপত্তি  ও  ধন-সম্পত্তি  যথেষ্ট  বৃদ্ধি  পায়।  লর্ড  ক্লাইভের  ইচ্ছায়  তিনি  'রাজা'  উপাধি  পান।  মোগল  সম্রাট  দ্বিতীয়  শাহআলমের ( ১৭৫৯-১৮০৬ )  কাছে  আর্জি  দিয়ে  রামচরণ  তাঁর  প্রাপ্য  'রাজা'  উপাধি  নিজ  পুত্র  রামলোচন  রায়কে  পাইয়ে  দেন  ২ জানুয়ারি,  ১৭৬৬  খ্রিস্টাব্দে। 

রাজা  রামলোচন  রায় :  রাজা  রামলোচন  রায়  পিতার  জীবিত  অবস্থায়  জমিদারির  কার্যভার  গ্রহণ  করেন।  বিদ্যোৎসাহী  রাজা  রামলোচন  আন্দুল  ও  পার্শ্ববর্তী  এলাকায়  টোল,  চতুস্পাঠী  ও  আয়ুর্বেদীয়  চিকিৎসালয়  স্থাপন  করেন।  কোম্পানির  গভর্নর  ভান্সিটার্ট  তাঁকে  তাঁর  দেওয়ান  হিসাবে  নিযুক্ত  করেন।  শেষ  জীবনে  তিনি  কলকাতার  পাথরিয়াঘাটার  বাসভবনে  থাকতেন।  মহারাজ  নন্দকুমারের  জালিয়াতির  বিচারের  সময়  তিনি  ছিলেন  সরকার  পক্ষের  প্রধান  সাক্ষীদের  অন্যতম  এবং  এই  মামলায়  তিনি  হেস্টিংসকে  যথেষ্ট  সাহায্য  করেছিলেন।  কালীঘাটের  মন্দিরের  সামনে  নাটমন্দির  তিনি  তৈরি  করেছেলেন।  আন্দুলের   প্রথম  রাজবাড়ি  তাঁর  তৈরি।  তাঁর  তৈরি  দুর্গাদালানে  প্রথম  দুর্গাপূজা  শুরু  হয়  ১৭৭০  খ্রীঃ।  ১৭৭৭  খ্রীঃ  তাঁর  মৃত্যু  হয়। 

রাজা  কাশীনাথ  রায় :  রামলোচনের  জ্যেষ্ঠ্য  পুত্র  কাশীনাথ  রায়
( ১৭৬৭- ১৮৬০ খ্রীঃ )  মাত্র  দশ  বছর  বয়সে  আন্দুল  জমিদারির  উত্তরাধিকারী  হন।  আন্দুলের  অন্নপূর্ণার  মন্দির  ও  সংলগ্ন  চোদ্দটি  শিব  মন্দির  তিনিই  নির্মাণ  করেছিলেন।   
               
রাজা  রাজনারায়ণ রায় : রাজা  কাশীনাথ  রায়  যখন  মারা  যান  তখন  তাঁর  একমাত্র  পুত্র  রাজনারায়ণের  বয়স  মাত্র  চার  বছর।  স্বভাবতই  'কোর্ট  অফ্  ওয়ার্ডস'  জমিদারি  পরিচালনার  ভার  নেন।  তিনি  হিন্দু  কলেজের  ছাত্র  ছিলেন।  ডিরোজিওর  'ইয়ং-বেঙ্গল'  আন্দোলনের  তিনি  অন্যতম  সদস্য  ছিলেন।  সংস্কৃত  ভাষায়  তাঁর  ব্যুৎপত্তি  ছিল।  তাঁর  আমলে  আন্দুল  সংস্কৃত  সাহিত্য-চর্চার  এক  বিশেষ  কেন্দ্র  হয়ে  উঠেছিল।  ভারতের  বড়লাট  লর্ড  অকল্যান্ড  ১৮৩৬  খ্রীঃ  তাঁকে  'রাজা  বাহাদুর'  উপাধি  দেন  এবং  একটি  রত্নখচিত  তরবারি  উপহার  দেন।  আন্দুলের  বিরাট  রাজপ্রাসাদটি  তাঁর  আমলে  তৈরি।  যদিও  তাঁর  পুত্র  বিজয়কেশব  রাজপ্রাসাদের  বাকি  কিছু  অংশ  নির্মাণ  করেন।  প্রায়  ষাট  ফুটের  বেশি  উঁচু  তিনতলা  বিশিষ্ট  বিরাট  রাজপ্রাসাদটির  সামনের  দিকের  মাঝখানে  রয়েছে  দশটি  ডোরিক্  স্থাপত্যের  অনুকরণে  তৈরি  প্রায়  পঞ্চাশ  ফুট  উঁচু  স্তম্ভ  যা  সারা  বাংলার  একমাত্র  এই  প্রাসাদটিতেই  দেখা  যায়। 

রাজা  বিজয়কেশব রায় : ১৮৫৯  খ্রীঃ  রাজা রাজনারায়ণের  মৃত্যুর  সময়ে  পুত্র  বিজয়কেশবের  বয়স  মাত্র  ১৩  বছর।  বিজয়কেশবের  দুই  পত্নী।  কিন্তু  তাঁদের  কোন  পুত্র  সন্তান  ছিল  না।  তিনি  তন্ত্র  সাধনায়  শেষ  জীবন  অতিবাহিত  করেন।  মারা  যান  ১৮৭৯  খ্রিস্টাব্দে।  তাঁর  দুই  বিধবা  রানি  দুর্গাসুন্দরী  ও  নবদুর্গা  দুটি  দত্তক  নেন।  কিন্তু  আদালতের  রায়ে  দত্তক  গ্রহণ  অবৈধ  সাব্যস্ত  হয়।  রাজা  কাশীনাথের  কন্যা  ত্রিপুরাসুন্দরীর  বিবাহ  হয়  কৃষ্ণনগর  নিবাসী  কালিপদ  মিত্রের  সঙ্গে।  আদালতের  আর  একটি  আদেশে  ত্রিপুরাসুন্দরীর  পুত্র  ক্ষেত্রকৃষ্ণ  মিত্র  আন্দুল  জমিদারির  মালিকানা  পান।  এইভাবে  আন্দুলে  'রায়'  রাজপরিবারের  অবসান  হয়  ও  'মিত্র'  রাজপরিবারের সূচনা  হয়।

            ক্ষেত্রকৃষ্ণ  মিত্র  আন্দুল  ও  অন্যান্য  স্থানের  বেশ  কয়েকটি  দেবালয়,  রাস্তা-ঘাট,  সেতু,  স্কুল,  হাসপাতাল  প্রভৃতি  জনহিতকর  কাজে  সাধ্যমত  দান  করেছিলেন।  ছোট  লাট  এ.  ম্যাকেঞ্জি  তাঁকে  'সার্টিফিকেট  অফ  অনার'  প্রদান  করেন। স্থানীয়  লোকেরা  তাঁকে  'রাজা'  উপাধি  দিয়েছিলেন।  ১৯০৭ খ্রীঃ  ৮৫  বছর  বয়সে  তিনি  মারা  যান। 

            এখন  আন্দুল  রাজবাড়িতে  নতুন  তৈরি  দুর্গাদালানে  প্রতি  বছর  দুর্গাপূজা  অনুষ্ঠিত  হয়। ( সঙ্গের  ছবিগুলো  ২০১৮  সালের  ষষ্ঠীর  দিন  তোলা। )

আন্দুল  রাজবাড়ি - ১

আন্দুল  রাজবাড়ি - ২

খিলানের  উপরের  কাজ 

নতুন  ঠাকুরদালান 

প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

প্রতিমা - ৩


কী  ভাবে যাবেন ?
            আন্দুল  রাজবাড়ি  যেতে  হলে  হাওড়া  স্টেশন  থেকে  আন্দুলের  বাসে  উঠে  আন্দুল  বাজারে  নামুন।  সেখান  থেকে   টোটোতে  বা  হেঁটে  আন্দুল  রাজবাড়ি। 


সহায়ক  গ্রন্থ :
              ১) বাংলার  খেতাবী  রাজ-রাজড়া :  বিমল  চন্দ্র  দত্ত   

                      ---------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা। 


  

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

      প্রকাশনীতে বইটা বেস্টসেলার হয়েছে।