Bonedi Barir Durga Pujo Kolkata লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Bonedi Barir Durga Pujo Kolkata লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৮

Bagbazar Haldar Bari Durga Puja, Bagbazar, Kolkata



বাগবাজার  হালদার  বাড়ির  দুর্গা  পূজা  

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            কলকাতার  বারোয়ারি  পুজোতে  'কর্পোরেট'  হস্তক্ষেপের  পর  দুর্গাপুজোতে  এল  এক  আমূল  পরিবর্তন।  ক্লাবগুলোর  মধ্যে  শুরু  হল  সুস্থ  প্রতিযোগিতা।  শুরু  হল  থিমের  পুজো।  

            প্রতি  বছর  ক্লাবগুলোর  নতুন  নতুন  থিম  দেখতে  রাস্তায়  মানুষের  ঢল  নামে।  এখন  তো  মহালয়া  থেকেই  শুরু  হয়  ঠাকুর  দেখা।  এই  সব  পুজোতে  পুজোটা  হয়  গৌণ।  কিন্তু  এই বারোয়ারি  পুজোর  বাইরে  আর  এক  রকম  পুজো  হয় কলকাতার  বনেদি  বাড়িগুলোর  থামওয়ালা  ঠাকুরদালানে।  এই  সব  বাড়ির পুজো  কোনোটা  একশ  বছরের  পুরানো।  কোনোটা  আবার  দু-তিনশ,  এমন  কি  চারশ  বছরেরও  বেশি  পুরানো।  এই  সব  বাড়ির  পুজোর  সঙ্গে  জড়িয়ে  আছে  কিংবদন্তি,  ইতিহাস আর  পরম্পরা।  এখন  হয়তো  আগের  মতো  সেই  চোখ-ধাঁধানো জৌলুস  নেই,  ঠিকই।  কিন্তু  এই  সব  বাড়িতে  পুজো  হয় অতীতের  পরম্পরা  মেনে,  নিষ্ঠা  সহকারে।  বাড়ির  বেশির  ভাগ  সভ্য-সভ্যারা  কলকাতার  অন্যত্র,  বাংলার  বাইরে  এমন  কি বিদেশেও  থাকেন।  তাঁরা  পুজো  উপলক্ষ্যে  এক  সঙ্গে  মিলিত হন।  এই  সব  বাড়ির  সাবেকি  পুজোতে  উপস্থিত  হলে  আপনি হয়তো  পৌঁছে  যাবেন  সুদূর  অতীতে।  আজ   বাগবাজার  হালদার  বাড়ি।  


বাগবাজার  হালদার  বাড়ি : 
১৭ / ১  কালী  প্রসাদ  চক্রবর্ত্রী  স্ট্রিট,  কলকাতা - ৩
( বাগবাজার  সার্বজনীন  পুজোর  কাছে )

            এই  বাড়ির  দুর্গা  বিগ্রহ  কষ্টিপাথরে  নির্মিত।  প্রায়  সাড়ে  চারশ  বছর  ধরে  এই  বাড়িতে  দেবীর  নিত্য  পূজা  হয়ে  আসছে।  দুর্গা  পূজার  সময়  বিগ্রহের  বিশেষ  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  কুমারী  পুজো  এই  বাড়ির  পুজোর  অন্যতম  আকর্ষণ।

            এখানে  উল্লেখ্য,  কুমারী  পুজা  দুর্গা  পুজার  একটি  অঙ্গ।  কালীপূজা,  জগদ্ধাত্রীপূজা,  অন্নপূর্ণাপূজা  ও  কামাখ্যাদি  শক্তিক্ষেত্রেও  কুমারী  পূজার  প্রচলন  রয়েছে।  এক  বছর  থেকে  ষোল  বছর  বয়সী  যে  কোন  অরজা  মেয়ে  কুমারী  হিসাবে  পূজার  যোগ্য।  তবে  সাধারণত  দু  বছর  থেকে  দশ  বছর  বয়সী  এবং  ব্রাহ্মণ  কুমারী  মেয়েই  কুমারী  হিসাবে  পুজো  করা  হয়।  বয়স  ভেদে  পূজিত  কুমারীদের  বিভিন্ন  নামে  অভিহিত  করা  হয়।  যথা :

      ১  বছরের  কুমারীর  নাম  :  সন্ধ্যা           
      ২  বছরের  কুমারীর  নাম  :  সরস্বতী           
      ৩  বছরের  কুমারীর  নাম  :  ত্রিধামূর্তি 
      ৪  বছরের  কুমারীর  নাম  :  কালিকা 
      ৫  বছরের  কুমারীর  নাম  :  সুভাগা          
      ৬  বছরের  কুমারীর  নাম  :  উমা 
      ৭   বছরের  কুমারীর  নাম  :  মালিনী 
      ৮  বছরের  কুমারীর  নাম  :  কুষ্ঠিকা 
      ৯  বছরের  কুমারীর  নাম  :  কালসন্দর্ভা  
     ১০  বছরের  কুমারীর  নাম  :  অপরাজিতা 
     ১১  বছরের  কুমারীর  নাম  :   রুদ্রাণী          
     ১২  বছরের  কুমারীর  নাম  :   ভৈরবী 
     ১৩  বছরের  কুমারীর  নাম  :  মহালপ্তী 
     ১৪   বছরের  কুমারীর  নাম  :  পীঠনায়িকা
     ১৫  বছরের  কুমারীর  নাম  :  ক্ষেত্রজ্ঞা
     ১৬  বছরের  কুমারীর  নাম  :  অন্নদা  বা  অম্বিকা 

                                                             ( বাংলা  উইকিপিডিয়া  থেকে )
          
  ( প্রতিমা  ও  অন্যান্য  ছবিগুলো  ২০১৮ সালের  নবমীর  দিন   তোলা। )


ঠাকুর  দালান 

দুর্গা  বিগ্রহ - ১

দুর্গা  বিগ্রহ - ২

কুমারী  পুজো -১

কুমারী  পুজো -২

          ---------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা। 


 

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

             প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

Bhawanipur De Bari Durga puja, Kolkata


ভবানীপুর  দে  বাড়ির  দুর্গা  পূজা  

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            কলকাতার  বারোয়ারি  পুজোতে  'কর্পোরেট'  হস্তক্ষেপের  পর  দুর্গাপুজোতে  এল  এক  আমূল  পরিবর্তন।  ক্লাবগুলোর  মধ্যে  শুরু  হল  সুস্থ  প্রতিযোগিতা।  শুরু  হল  থিমের  পুজো।  

            প্রতি  বছর  ক্লাবগুলোর  নতুন  নতুন  থিম  দেখতে  রাস্তায়  মানুষের  ঢল  নামে।  এখন  তো  মহালয়া  থেকেই  শুরু  হয়  ঠাকুর  দেখা।  এই  সব  পুজোতে  পুজোটা  হয়  গৌণ।  কিন্তু  এই বারোয়ারি  পুজোর  বাইরে  আর  এক  রকম  পুজো  হয় কলকাতার  বনেদি  বাড়িগুলোর  থামওয়ালা  ঠাকুরদালানে।  এই  সব  বাড়ির পুজো  কোনটা  একশ  বছরের  পুরানো।  কোনটা  আবার  দু-তিনশ,  এমন  কি  চারশ  বছরেরও  বেশি  পুরানো।  এই  সব  বাড়ির  পুজোর  সঙ্গে  জড়িয়ে  আছে  কিংবদন্তি,  ইতিহাস আর  পরম্পরা।  এখন  হয়তো  আগের  মত  সেই  চোখ-ধাঁধানো জৌলুস  নেই,  ঠিকই।  কিন্তু  এই  সব  বাড়িতে  পুজো  হয় অতীতের  পরম্পরা  মেনে,  নিষ্ঠা  সহকারে।  বাড়ির  বেশির  ভাগ  সভ্য-সভ্যারা  কলকাতার  অন্যত্র,  বাংলার  বাইরে  এমন  কি বিদেশেও  থাকেন।  তাঁরা  পুজো  উপলক্ষ্যে  এক  সঙ্গে  মিলিত হন।  এই  সব  বাড়ির  সাবেকি  পুজোতে  উপস্থিত  হলে  আপনি হয়তো  পৌঁছে  যাবেন  সুদূর  অতীতে।  আজ  ভবানীপুর  দে  বাড়ি। 

ভবানীপুর  দে  বাড়ি :
26 / E  চন্দ্র  নাথ  চ্যাটার্জী  স্ট্রিট  ( নেতাজি  ভবন  মেট্রো  স্টেশনের  কাছে,  হরিশ  মুখার্জী  রোড  ও  আশুতোষ  মুখার্জী  রোডের  সংযোগকারী  রাস্তা ),  কলকাতা। 

            এই  বাড়ির  অসুর কোট-প্যান্ট-বুট  পরিহিত।  মাথার  চুল  সাদা।  পরাধীন  ভারতবর্ষে   এই  বাড়িতে  অসুরকে  ইংরেজের  প্রতীক  হিসাবে  কল্পনা  করে  'ইংরেজ-অসুর'  বিনাশিনী  রূপে  দেবী  দুর্গার  আরাধনা  শুরু  হয়েছিল।  

সঙ্গের  ছবিগুলো  ২০১৮  সালের  সপ্তমীর  দিন  তোলা। 


প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

প্রতিমা - ৩

        ---------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।


 

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

             প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে । 




শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮

Bhawanipur Mallick Bari History and Durga puja, Kolkata


ভবানীপুর মল্লিক বাড়ির ইতিহাস ও দুর্গাপূজা  

                         শ্যামল কুমার ঘোষ 


            কলকাতার বারোয়ারি পুজোতে 'কর্পোরেট' হস্তক্ষেপের পর দুর্গাপুজোতে এল এক আমূল পরিবর্তন। ক্লাবগুলোর মধ্যে শুরু হল সুস্থ প্রতিযোগিতা। শুরু হল থিমের পুজো।  

            প্রতি বছর ক্লাবগুলোর নতুন নতুন থিম দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। এখন তো মহালয়া থেকেই শুরু হয় ঠাকুর দেখা। এই সব পুজোতে পুজোটা হয় গৌণ। কিন্তু এই বারোয়ারি পুজোর বাইরে আরও এক রকম পুজো হয় কলকাতার বনেদি বাড়িগুলোর থামওয়ালা ঠাকুরদালানে। এই সব বাড়ির পুজো কোনোটা একশ  বছরের পুরানো। কোনোটা আবার দু-তিনশ, এমনকি চারশ বছরেরও বেশি পুরানো। এই সব বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, ইতিহাস আর পরম্পরা। এখন হয়তো আগের মতো সেই চোখ ধাঁধানো জৌলুস নেই, ঠিকই। কিন্তু এই সব বাড়িতে পুজো হয়  অতীতের পরম্পরা মেনে, নিষ্ঠা সহকারে। বাড়ির বেশির ভাগ সভ্য-সভ্যারা কলকাতার অন্যত্র, বাংলার বাইরে এমনকি বিদেশেও থাকেন। তাঁরা পুজো উপলক্ষ্যে এক সঙ্গে মিলিত হন। এই সব বাড়ির সাবেকি পুজোতে উপস্থিত হলে আপনি হয়তো পৌঁছে যাবেন সুদূর অতীতে। আজ ভবানীপুর মল্লিক বাড়ি। 

ভবানীপুর মল্লিক বাড়ি :
মোহিনী মোহন রোড ( নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশনের কাছে ), কলকাতা। 

            সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : বর্ধমানের শ্রীখণ্ড থেকে এঁরা প্রথমে  গুপ্তিপাড়া ও পরে কলকাতার ভবানীপুরে বসতি স্থাপন করেন। ১৯২৫ সাল থেকে ভবানীপুরের বাড়িতে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। এঁরা আদতে বৈষ্ণব। তাই পুজোতে কোনো বলি হয় না। ষষ্ঠী থেকে নবমী  পর্যন্ত বাড়িতে নিরামিষ রান্না হয়। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর এঁরা আমিষ খাবার গ্রহণ করেন। আগে পূজা উপলক্ষে যাত্রা, কীর্তন, থিয়েটার ইত্যাদির আসার বসতো। বাড়ির লোকজন ও আত্মীয়রা  থিয়েটারে অংশ গ্রহণ করতেন। বাংলা চলচিত্র-শিল্পী রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর মেয়ে কোয়েল মল্লিক এই বাড়ির সন্তান। 
 
সঙ্গের ছবিগুলো ২০১৮ সালের সপ্তমীর দিন তোলা।

ঠাকুর দালান 

প্রতিমা 

প্রতিমার সামনে কোয়েল মল্লিক 

প্রতিমার সামনে বাবা ও মেয়ে 

বাবা ও মেয়ে 

কোয়েল মল্লিক 

বিভিন্ন ভঙ্গিমায় কোয়েল - ১

বিভিন্ন ভঙ্গিমায় কোয়েল - ২

বিভিন্ন ভঙ্গিমায় কোয়েল - ৩

              -----------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা। 



 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

      প্রকাশনীতে বইটা বেস্টসেলার হয়েছে। 


বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮

Maniktala Saha Bari Durga Puja, Kolkata



 মানিকতলা  সাহা  বাড়ির  দুর্গা  পূজা  


শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            কলকাতার  বারোয়ারি  পুজোতে  'কর্পোরেট'  হস্তক্ষেপের  পর  দুর্গাপুজোতে  এল  এক  আমূল  পরিবর্তন।  ক্লাবগুলোর  মধ্যে  শুরু  হল  সুস্থ  প্রতিযোগিতা।  শুরু  হল  থিমের  পুজো।  

            প্রতি  বছর  ক্লাবগুলোর  নতুন  নতুন  থিম  দেখতে  রাস্তায়  মানুষের  ঢল  নামে।  এখন  তো  মহালয়া  থেকেই  শুরু  হয়  ঠাকুর  দেখা।  এই  সব  পুজোতে  পুজোটা  হয়  গৌণ।  কিন্তু  এই বারোয়ারি  পুজোর  বাইরে  আর  এক  রকম  পুজো  হয় কলকাতার  বনেদি  বাড়িগুলোর  থামওয়ালা  ঠাকুরদালানে।  এই  সব  বাড়ির পুজো  কোনটা  একশ  বছরের  পুরানো।  কোনটা  আবার  দু-তিনশ,  এমন  কি  চারশ  বছরেরও  বেশি  পুরানো।  এই  সব  বাড়ির  পুজোর  সঙ্গে  জড়িয়ে  আছে  কিংবদন্তি,  ইতিহাস আর  পরম্পরা।  এখন  হয়তো  আগের  মত  সেই  চোখ-ধাঁধানো জৌলুস  নেই,  ঠিকই।  কিন্তু  এই  সব  বাড়িতে  পুজো  হয় অতীতের  পরম্পরা  মেনে,  নিষ্ঠা  সহকারে।  বাড়ির  বেশির  ভাগ  সভ্য-সভ্যারা  কলকাতার  অন্যত্র,  বাংলার  বাইরে  এমন  কি বিদেশেও  থাকেন।  তাঁরা  পুজো  উপলক্ষ্যে  এক  সঙ্গে  মিলিত হন।  এই  সব  বাড়ির  সাবেকি  পুজোতে  উপস্থিত  হলে  আপনি হয়তো  পৌঁছে  যাবেন  সুদূর  অতীতে।  আজ  মানিকতলা  সাহা  বাড়ি।  

মানিকতলা  সাহা  পরিবার / :  
১২২ এ,  মানিকতলা  স্ট্রিট।  ( বিবেকানন্দ  রোডের  উপর  অবস্থিত  স্বামী  বিবেকানন্দ  মূর্তির  কাছে। ) 

ঠাকুর  দালান  ও দুর্গা  প্রতিমার  ছবি ( ২০১৭ সালে  তোলা ) :



ঠাকুর  দালান

প্রতিমা - ১
প্রতিমা - ২

অন্যান্য  বনেদি  বাড়ির  পূজা  দেখতে  নিচের  লিংকে  ক্লিক  করুন :
         বনেদি  বাড়ির  দূর্গা  পুজো,  কলকাতা

            -----------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা। 


 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

      প্রকাশনীতে বইটা বেস্টসেলার হয়েছে। 




মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১৮

Hidaram Banerjee Lane Dutta Bari Durga Puja, Kolkata



হিদারাম ব্যানার্জি লেন দত্ত বাড়ির দুর্গা পূজা, কলকাতা   

                শ্যামল কুমার ঘোষ 

            কলকাতার বারোয়ারি পুজোতে 'কর্পোরেট' হস্তক্ষেপের পর দুর্গাপুজোতে এল এক আমূল পরিবর্তন। ক্লাবগুলোর মধ্যে শুরু হল সুস্থ প্রতিযোগিতা। শুরু হল থিমের পুজো।  

            প্রতি বছর ক্লাবগুলোর নতুন নতুন থিম দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। এখন তো মহালয়া থেকেই শুরু হয় ঠাকুর দেখা। এই সব পুজোতে পুজোটা হয় গৌণ। কিন্তু এই বারোয়ারি পুজোর বাইরে আরও এক রকম পুজো হয় কলকাতার বনেদি বাড়িগুলোর থামওয়ালা ঠাকুরদালানে। এই সব বাড়ির পুজো কোনোটা একশ  বছরের পুরানো। কোনোটা আবার দু-তিনশ, এমনকি চারশ বছরেরও বেশি পুরানো। এই সব বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, ইতিহাস আর পরম্পরা। এখন হয়তো আগের মতো সেই চোখ ধাঁধানো জৌলুস নেই, ঠিকই। কিন্তু এই সব বাড়িতে পুজো হয়  অতীতের পরম্পরা মেনে, নিষ্ঠা সহকারে। বাড়ির বেশির ভাগ সভ্য-সভ্যারা কলকাতার অন্যত্র, বাংলার বাইরে এমনকি বিদেশেও থাকেন। তাঁরা পুজো উপলক্ষ্যে এক সঙ্গে মিলিত হন। এই সব বাড়ির সাবেকি পুজোতে উপস্থিত হলে আপনি হয়তো পৌঁছে যাবেন সুদূর অতীতে। আজ  হিদারাম ব্যানার্জি লেন দত্ত পরিবার। 

হিদারাম  ব্যানার্জি  লেন  দত্ত  পরিবার : 
৬২,  হিদারাম  ব্যানার্জি  লেন।  ( নির্মল  চন্দ্র  স্ট্রিট  ও  বিপিন  বিহারী  গাঙ্গুলি  স্ট্রিটের  সংযোগস্থলের  কাছে। ) 

দুর্গা  প্রতিমার  ছবি ( ২০১৭ সালে  তোলা ) :


প্রতিমা

          -------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা। 


 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 অথবা 8597973884 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

      প্রকাশনীতে বইটা বেস্টসেলার হয়েছে। 



Sabarna Roy Choudhury Bari History and Durga Puja, Kolkata



 সাবর্ণ রায় চৌধুরী বাড়ির ইতিহাস ও দুর্গা পূজা, কলকাতা   

                শ্যামল কুমার ঘোষ 

            কলকাতার বারোয়ারি পুজোতে 'কর্পোরেট' হস্তক্ষেপের পর দুর্গাপুজোতে এল এক আমূল পরিবর্তন। ক্লাবগুলোর মধ্যে শুরু হল সুস্থ প্রতিযোগিতা। শুরু হল থিমের পুজো।  

            প্রতি বছর ক্লাবগুলোর নতুন নতুন থিম দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। এখন তো মহালয়া থেকেই শুরু হয় ঠাকুর দেখা। এই সব পুজোতে পুজোটা হয় গৌণ। কিন্তু এই বারোয়ারি পুজোর বাইরে আরও এক রকম পুজো হয় কলকাতার বনেদি বাড়িগুলোর থামওয়ালা ঠাকুরদালানে। এই সব বাড়ির পুজো কোনোটা একশ  বছরের পুরানো। কোনোটা আবার দু-তিনশ, এমনকি চারশ বছরেরও বেশি পুরানো। এই সব বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, ইতিহাস আর পরম্পরা। এখন হয়তো আগের মতো সেই চোখ ধাঁধানো জৌলুস নেই, ঠিকই। কিন্তু এই সব বাড়িতে পুজো হয়  অতীতের পরম্পরা মেনে, নিষ্ঠা সহকারে। বাড়ির বেশির ভাগ সভ্য-সভ্যারা কলকাতার অন্যত্র, বাংলার বাইরে এমনকি বিদেশেও থাকেন। তাঁরা পুজো উপলক্ষ্যে এক সঙ্গে মিলিত হন। এই সব বাড়ির সাবেকি পুজোতে উপস্থিত হলে আপনি হয়তো পৌঁছে যাবেন সুদূর অতীতে। আজ সাবর্ণ রায় চৌধুরী বাড়ি। 

সাবর্ণ  রায় চৌধুরী  বাড়ি : 
( বড়িশা, সখেরবাজার। )

সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস :  সাবর্ণ  রায়  চৌধুরী  পরিবারের  গোত্র  'সাবর্ণ'।  এই  বংশের  লক্ষ্মীকান্ত  মজুমদার  কর্মজীবন  শুরু  করেন  রাজা  বসন্ত  রায়ের  তত্ত্বাবধানে।  পরে  রাজা   প্রতাপাদিত্যের  দেওয়ান  হন।  হুগলি  জেলার  গোঘাটা-গোপালপুরে  লক্ষ্মীকান্তের  পিতা  কামদেব  গঙ্গোপাধ্যায়  ( ঘটকদের  ভাষায়  জীয়ো  গাঙ্গুলী )  বাস  করতেন।  গার্হস্থ্য  জীবনে  থেকেও  তিনি  সন্ন্যাসীর  মত  অনাসক্ত  ছিলেন  এবং  সর্বদা  তীর্থ  ভ্রমণ  করতেন।  কথিত  আছে,  তিনি  স্ত্রী  পদ্মাবতীকে  সঙ্গে  নিয়ে  ব্রম্ভচারীর  বেশে  কালীঘাটের  কাছে  এক  আশ্রম  নির্মাণ  করে  নিজ  ইষ্টদেবতার  সাধনায়  নিযুক্ত  ছিলেন।  এই  সময়  তাঁর  স্ত্রী  পদ্মাবতী  এক  পুত্র  সন্তান  প্রসব  করে  মারা  যান।  পত্নীর  মৃত্যুর  পর  তিনি  পুত্রকে  প্রতিবেশীদের  হাতে  সমর্পন  করে  কাশীধামে  গিয়ে  দণ্ডি  সন্ন্যাসী  হন।  মানসিংহ  যখন  সসৈন্যে  বঙ্গে  আসছিলেন  তখন  এই  কামদেব  ব্রহ্মচারীর  সঙ্গে  সাক্ষাৎ  হয়  এবং  মানসিংহ  তাঁহার  নিকট  শক্তিমন্ত্রে  দীক্ষিত  হন।  গুরুর  অনুরোধে  তাঁর  পুত্রের  সন্ধান  করবার  জন্য  স্বীকৃত  হন। 

            লক্ষীকান্ত  প্রতিবেশীদের  যত্নে  প্রতিপালিত  হয়ে  বসন্ত  রায়ের  অনুগ্রহে  প্রতাপাদিত্যের  রাজ  সরকারে  প্রবেশ  করেন  এবং  প্রতিভাবলে  দেওয়ানের  পদ  লাভ  করেন।  পরে   প্রতাপাদিত্যের  পতনের  পর  মানসিংহের  সুপারিশে  জাহাঙ্গীর  বাদশাহের  নিকট  থেকে  কলকাতা  সহ  পাঁচ  পরগণার  সনদ  পান।  এই  বংশের  কেশবচন্দ্র ( কেশবরাম )  মজুমদার  মুর্শিদকুলি  খাঁর  সময়  রায়চৌধুরী  উপাধি  পান  এবং  তাঁর  জমিদারির  সুবিধার  জন্য  বড়িশায়  এসে  বাস  করেন।  তখন  থেকে  এই  পরিবার  বড়িশার  সাবর্ণ  রায়  চৌধুরী  নামে  খ্যাত  হয়।  কেশবের  পুত্র  শিবদেব  রায়ের  কাছে  কেউ  কিছু  চাইলে  তিনি  ফেরাতেন  না,  প্রত্যেকের  সন্তোষ  বিধান  করতেন।  তাই  তিনি  সকালের  কাছে  সন্তোষ  রায়  নামে  বেশি  পরিচিত  ছিলেন।  তিনি  কালীঘাটের  ক্ষুদ্র  মন্দির  (যেটি  বসন্ত  রায়  নির্মাণ  করে  ছিলেন )  ভেঙে  বর্তমান  মন্দির  নির্মাণ  করে  দেন।  ইস্ট  ইন্ডিয়া  কোম্পানি  আওরঙ্গজেবের  পৌত্র  বঙ্গাধিপ  আজিম  উশ্বানকে  ১৬০০০  টাকা  নজরানা  দিয়ে  যে  আদেশ  পান  সেই  অনুসারে  এই  বংশীয়  রামচাঁদ,  মনোহর  ও  রামভদ্র  রায়  চৌধুরীর  কাছ  থেকে  ১৩০০  টাকায়  কলকাতা  কিনে  নেয়।
      
            এই  পরিবারে  বর্তমানে  মোট  আটটি  পূজা  হয়।  বড়িশাতে  হয়  ছয়টি।  আটচালার  পুজোটি  প্রাচীনতম।  আটটি  পরিবারেই  প্রতিমাই  'মঠচৌড়ি'  বা  তিন  চালির।          

  বড়  বাড়ির ( বড়িশা, সখেরবাজার ) দুর্গা   প্রতিমার  ছবি ( ২০১৫ সালে  তোলা ) :

প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

মেজ  বাড়ি  ( সাবর্ণ  পাড়া,  কে. কে. রায়  চৌধুরী  রোড ,সখেরবাজার,  বড়িশা )  দুর্গা  প্রতিমার  ছবি ( ২০১৫ সালে  তোলা ) :

প্রতিমা - ১

প্রতিমা - ২

সাজের আটচালা বাড়ির 
  ( সাবর্ণ পাড়া, কে. কে. রায় চৌধুরী রোড , সখেরবাজার,  বড়িশা )  পূজা  মণ্ডপ  ও  দুর্গা  প্রতিমার  ছবি ( ২০১৫ সালে  তোলা ) :

পূজা  মণ্ডপ

প্রতিমা

 সহায়ক  গ্রন্থ :

                         ১)  যশোহর  খুলনার  ইতিহাস :  সতীশচন্দ্র মিত্র                                                                       

         -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।