কিন্নর, হিমাচল প্রদেশ, ভ্রমণ
( ৪ র্থ পর্ব )
শ্যামল কুমার ঘোষ
ছিটকুল থেকে ফিরে রাত্রিটা সাংলায় কাটিয়ে পরদিন সকালে চলুন কল্পার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ি। কারছাম থেকে ২২ নং জাতীয় সড়ক ধরে পোয়ারির দিকে এগিয়ে যাই। পোয়ারিতে জাতীয় সড়ক ছেড়ে বাঁ দিকে সোজা উঠে ৭ কিমি গেলে আমরা পৌঁছে যাব রেকং পিও। ২২৯০ মিটার ( ৭৫১৩ ফুট ) উচ্চতায় অবস্থিত রেকং পিও কিন্নর জেলার সদর শহর। এখন থেকে কিন্নর-কৈলাশ শৃঙ্গ দেখে নিন। এখানে পাইনের ফাঁক দিয়ে দেখা কিন্নর-কৈলাশ শৃঙ্গ অন্যরকম। এখানকার বাজার থেকে হিমাচলের শুকনো ফল কিনতে পারেন।
 |
রেকং পিও থেকে কিন্নর-কৈলাশ - ১ |
 |
রেকং পিও থেকে কিন্নর-কৈলাশ - ২ |
 |
রেকং পিও শহর |
রেকং পিও থেকে আরও ১৩ কিমি সামনে এগোলে আমরা পৌঁছে যাব সুন্দরী কল্পায়। কিন্নর জেলার এক শান্ত সুন্দর পাহাড়ি শহর কল্পা। উচ্চতা ২৯৬০ মিটার ( ৯৭১১ ফুট ) । কল্পা আগে জেলার সদর শহর ছিল। কল্পার একদিকে সবুজের সমারোহ, অন্যদিকে তুষার শুভ্র হিমালয়। কল্পার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ৬০৫০ মিটার উঁচু কিন্নর-কৈলাশ। লোক গাথা অনুযায়ী কৈলাশ, ভগবান শিবের বাসভূমি। উদিত সূর্যের আলো যখন এই পর্বত শৃঙ্গের উপর পড়ে তখন সেই আলোকচ্ছটা এক মায়াময় দৃশ্যের সৃষ্টি করে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এই পর্বত শৃঙ্গের রং পরিবর্তন হয়। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে এখানে দু'-এক দিন থাকতে হবে। কল্পার চারিদিকে, পথের ধারে, পাহাড়ের কোলে, আছে আপেল গাছ। আপেল এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল। এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সহাবস্থান। রয়েছে নারায়ণ-নাগিনী মন্দির আর বুদ্ধ মন্দির। কয়েক বছর আগে এখানে একটি নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নারায়ণ-নাগিনী মন্দিরটি শিল্পকর্মের এক অপূর্ব নিদর্শন।
কল্পার কাছেই আছে ''সুইসাইড পয়েন্ট''। এর খাড়াই উচ্চতা ও ভয়াবহতার জন্য এই নামে অভিহিত করা হয়।
কল্পা থেকে ৬ কিমি দূরে আছে রোঘি গ্রাম। এখান থেকে গাছের ফাঁকে সম্পূর্ণ কিন্নর-কৈলাশ রেঞ্জ খুব সুন্দর দেখায়। এখানে একটি মন্দির আছে। আর চারিদিকে আছে আপেল গাছ।
 |
কল্পার পাহাড়ি দৃশ্য - ১ |
 |
কল্পার পাহাড়ি দৃশ্য - ২ |
 |
কিন্নর-কৈলাশ শৃঙ্গের Panoramic View |
 |
কল্পায় আপেল গাছ |
 |
নারায়ণ-নাগিনী মন্দির - ১ |
 |
নারায়ণ-নাগিনী মন্দির - ২ |
 |
মন্দিরের দরজায় ধাতুর পাতের কাজ -১ |
 |
মন্দিরের দরজায় ধাতুর পাতের কাজ -২ |
 |
বুদ্ধ মন্দির |
 |
বুদ্ধ মন্দিরে প্রেয়ার হুইল |
 |
মন্দিরের পিছন থেকে কিন্নর-কৈলাশ |
 |
নতুন মন্দির |
 |
নতুন মন্দির থেকে কিন্নর-কৈলাশ |
 |
সুইসাইড পয়েন্ট |
 |
রোঘি গ্রাম থেকে কিন্নর-কৈলাশ |
 |
রোঘি গ্রামে আপেল গাছ |
 |
নাসপাতি গাছ |
 |
রোঘি গ্রামের একটি মন্দিরের ভিতর |
 |
গ্রাম থেকে কিন্নর-কৈলাশের Panoramic View
|
কল্পা থেকে সিমলা একদিনে ফেরা যাবে না। তাই এক রাত্রি নারকান্দায় বিশ্রাম নিন।
কীভাবে যাবেন :
হিমাচল প্রদেশের এই কিন্নর ভ্রমণে যেতে হলে হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৭ টা ৪০ মিনিটে ১২৩১১ নং হাওড়া-কালকা মেলে চেপে ট্রেনে দু' রাত কাটিয়ে তৃতীয় দিন ভোরে কালকা পৌঁছান। দিল্লি হয়েও কালকা যাওয়া যায়। কালকা থেকে সিমলা যাওয়ার জন্য টয়ট্রেন ধরুন। কালকা থেকে টয়ট্রেনে ৯৪ কিমি রাস্তায় ১০৩ টি সুড়ঙ্গ পেরনোর যাত্রাপথ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। টয়ট্রেন গুলির মধ্যে বিলাসবহুল শিবালিক এক্সপ্রেসই সব থেকে ভাল। এছাড়া অন্যান্য ট্রেন ও ট্রেন-মোটর পাবেন। ২০০৮ সালে ইউনেস্কো ১৯০৩ সালে স্থাপিত এই কালকা-সিমলা রেলপথকে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করেছে।
ট্রেনে টিকিট না পেলে কালকা স্টেশন থেকে সিমলা যাওয়ার গাড়ি পাবেন। সিমলা বাসস্ট্যান্ড থেকে হিমাচলের বিভিন্ন জায়গা যাওয়ার বাস পাবেন। তবে বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। তাই দলে সাত-আট জন থাকলে গাড়ি নেওয়াই ভাল। তাতে ঝক্কি অনেক কম হবে।
কলকাতার চাঁদনির কাছে হিমাচল প্রদেশের পর্যটন অফিস আছে। সেখানে গেলে এই ভ্রমণ সংক্রান্ত অনেক খবর জানতে পারবেন। প্রয়োজনে হোটেল-গাড়িও বুক করতে পারবেন। অফিসের ঠিকানা :
H.P. Tourism Development Corporation Ltd.
2H, 2 nd Floor, Electronic Centre,
1/1A, Biplabi Anukul Chandra Street,
Kolkata- 700072. Tel. (033) 22126361
 |
কালকা-সিমলা রেলপথে ১৬ নং সুড়ঙ্গে টয় ট্রেন |
 |
সিমলা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রেল মোটর |
শেষ
প্রথম অংশের জন্য নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন :
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন