কিন্নর, হিমাচল প্রদেশ, ভ্রমণ
( ৩য় ভাগ )
শ্যামল কুমার ঘোষ
ছিটকুল ( Chhitkul ) বা চিটকুল ( Chitkul )
সাংলাতে রাত্রিটা কাটিয়ে পরদিন সকালে চলুন ছিটকুল থেকে ঘুরে আসি। হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার সাংলা উপত্যকায় অবস্থিত একটি গ্রাম চিটকুল বা ছিটকুল। এটি ভারত-তিব্বত সীমান্তের ভারতের শেষ গ্রাম। এই গ্রাম থেকে তিব্বত সীমান্ত খুব দূরে নয়। গ্রাম পর্যন্ত বিনা পারমিটে যাওয়া যায়। সাংলা থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিমি। ছিটকুলের উচ্চতা ৩৪৬০ মিটার ( ১১৩৫১ ফুট )। শীতকালে এই জায়গা পুরু বরফে ঢেকে যায়। তখন অধিকাংশ লোকজন নিচে নেমে আসে। থাকার জন্য এখানে কিছু হোটেল আছে। তবে সে রকম ভাল নয়। মহার্ঘও। বেশির ভাগ পর্যটক সাংলায় থেকে দিনে-দিনে এখন থেকে ঘুরে যায়। এখানকার বাড়ি-ঘর কাঠ ও স্লেট পাথর দিয়ে তৈরি। আজকাল টিনের তৈরি বাড়িও দেখা যাচ্ছে। এখানকার উৎপন্ন আলু বিখ্যাত ও দামি। এখানে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত টাকা ও গাড়ির জ্বালানি সঙ্গে নেওয়াই ভাল। কারণ এখানে কোন পেট্রল পাম্প বা ATM বুথ নেই। চিকিৎসারও কোন ব্যবস্থা নেই। সাংলা থেকে ছিটকুল যাওয়ার পাহাড়ি পথ খুবই সংকীর্ণ ও দুর্গম। উল্টোদিক থেকে কোন গাড়ি এলে তাকে জায়গা দেওয়ার জন্য রাস্তা থেকে পাশে সরে দাঁড়াতে হয়। মাঝে-মাঝেই পাহাড়ি ঝোরার জল মাড়িয়ে যেতে হয়। তবে পথের পাহাড়ি-সৌন্দর্য সেই দুর্গমতাকে ঢেকে দেয়। ছিটকুলে পৌঁছে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে বাক্-রোহিত হতে হয়। সামনে নীল আকাশের কোলে মাতাল-করা তুষার-শৃঙ্গ আর তার ডান পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুন্দরী বাপসা নদী। সব মিলে চোখে ঘোর লেগে যায়। এই অপার সৌন্দর্য ঠিক লিখে বোঝানো যায় না। শুধু দু' চোখ দিয়ে দেখে মনের মণিকোঠায় সারা জীবনের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে হয়।
সাংলা থেকে রকছাম ( Rakchham ) হয়ে ছিটকুল যেতে হয়। রকছামে আপেল বাগানের মধ্যে থাকার জন্য কিছু তাঁবু আছে। উলের ভাল জামা-কাপড় অবশ্যই সঙ্গে নিতে হবে। কারণ এখানে খুব ভাল আবহাওয়াতেও ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে যায়। আবহাওয়া খারাপ হলে তো কথাই নেই।
ছিটকুলের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো স্থানীয় ছিটকুল মাথি বা মাতা দেবীর মন্দির। মন্দিরের কাঠের উপর খোদাই করা কাজ দেখার মত।
ক্রমশঃ
পরের অংশের জন্য নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন :
------------------------------------
আমার ইমেল : shyamalfpb@gmail.com প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন